এখানে নিবন্ধটির বাংলা অনুবাদ দেওয়া হলো:

ইসরায়েলের লেবানন আক্রমণ: দাহিয়ার মতবাদের পুনরাবৃত্তি

লেবাননে ইসরায়েলের হামলা 'দাহিয়া মতবাদ'-এর প্রত্যাবর্তনকে ইঙ্গিত করে, যেখানে ধ্বংসলীলাকে প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নিরাপত্তা শঙ্কা এবং ক্ষমতার রাজনীতি দ্বারা চালিত এই আক্রমণ একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের জন্ম দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বর্তমানে যা ঘটছে তা শান্তি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা এবং মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীর করতে পারে।
ইসরায়েলের লেবানন আক্রমণ: দাহিয়ার মতবাদের পুনরাবৃত্তি
ভূমিকা
মধ্যপ্রাচ্য আবারও পতনের দ্বারপ্রান্তে। বিশ্বের অন্যতম অস্থির অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত মধ্যপ্রাচ্য এবার এমন এক সংঘাতের মুখোমুখি হয়েছে যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করেছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির স্নায়ু চেপে ধরেছে। ইরাক, সিরিয়া এবং লেবানন থেকে গাজা পর্যন্ত—আঞ্চলিক রণকৌশল এখন কেবল একটি গল্পেরই পুনরাবৃত্তি করছে: লক্ষ্য নির্ভুলতা নয়, লক্ষ্য হলো ধ্বংসলীলা। এর মূল যুক্তি হলো ধ্বংসের মাধ্যমে বাধ্য করা। এবার ইরানকে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে। হরমুজ প্রণালীকে লিভারেজ হিসেবে ব্যবহার করে এবং নিজস্ব 'মোজাইক ডকট্রিন' প্রয়োগ করে ইরান বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তার ওপর যেকোনো আক্রমণের বৈশ্বিক প্রভাব হবে ভয়াবহ। কিন্তু ইরানের সেই চাল ব্যর্থ হয়েছে। আর ইসরায়েলের কাছে ব্যর্থতা কখনোই শেষ নয়, বরং এটি একটি নতুন শুরুর ট্রিগার। কোনো বিজয় বা কৌশলগত লাভ প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়ে ইসরায়েল আবারও লেবাননের দিকে মুখ ফিরিয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের এই আক্রমণ অন্য ফ্রন্টগুলোতে তার কৌশলগত পরাজয়েরই ধারাবাহিকতা। [1]
দাহিয়া মতবাদ (Dahiya Doctrine) কী?
এটি কোনো দাপ্তরিক সামরিক মতবাদ নয়। 'দাহিয়া' একটি ভয়াবহ কৌশল, যা ২০০৬ সালে প্রথমবার লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রয়োগ করেছিল। ২০০৬ সালে মেজর জেনারেল গাদি আইজেনকোট প্রকাশ্যে এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। ২০০৮ সালে তার কমান্ডে ইসরায়েলি বাহিনী দুই হাজার পাউন্ডের বোমা এবং অনুরূপ গোলাবারুদ ব্যবহার করে দক্ষিণ বৈরুতের 'দাহিয়া' নামক এলাকাটি ধ্বংস করার পর, আইজেনকোট এই মতবাদের ব্যাখ্যা দেন।
তার মতে, “ইসরায়েল যখনই আক্রান্ত হবে, তখনই ২০০৬ সালে বৈরুতের দাহিয়া পাড়ায় যা ঘটেছিল তার পুনরাবৃত্তি করবে। আমরা সেখানে অসামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করব এবং ব্যাপক ক্ষতি ও ধ্বংস সাধন করব। আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো বেসামরিক এলাকা নয়, বরং সামরিক স্থাপনা। এটি কোনো পরামর্শ নয়, এটি একটি কৌশল।” দাহিয়া মতবাদের মূল বিষয় হলো বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে অত্যধিক এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করা, যাতে প্রতিরোধ আন্দোলনকে সমর্থনকারী জনগণকে সম্মিলিতভাবে শাস্তি দেওয়া যায়।
লেবানন আক্রমণ
“ইরানে ইসরায়েলের কৌশলগত পরাজয়ের মূল্য দিচ্ছে লেবানন।”
৮ই এপ্রিল, ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইসরায়েল লেবাননে ‘অপারেশন ইটারনাল ডার্কনেস’ (Operation Eternal Darkness) শুরু করে। প্রায় ৫০টি যুদ্ধবিমান লেবাননের আকাশসীমায় প্রবেশ করে মাত্র ১০ মিনিটে ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে ১৬০টি বোমা ফেলে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রায় ২৫৪ জন নিহত এবং ৮৯০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। দক্ষিণ লেবানন, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ বৈরুতে এই হামলা চালানো হয়। চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে ‘রাফাহ মডেল’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এতে আশঙ্কা জাগছে যে, হিজবুল্লাহকে স্থায়ীভাবে দমন করতে ইসরায়েল পুরো জনপদ ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে।
আক্রমণের চালিকাশক্তি
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট একবার বলেছিলেন, “যখনই একজন রাজা দেখেন যে তার প্রজারা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে যাচ্ছে, তখনই তিনি অন্য দেশের সাথে যুদ্ধ শুরু করেন।” লেবাননে ইসরায়েলের আক্রমণ এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। ইরানের কাছে পরাজয় থেকে জনগণের নজর সরাতেই ইসরায়েল এখন লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু করেছে। এই আক্রমণের পেছনে বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও কৌশলগত সংকেত রয়েছে। যদিও ইসরায়েল কখনোই ইরানের সাথে কোনো যুদ্ধবিরতির পক্ষে ছিল না, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাকে তা করতে বাধ্য করেছে। [2]
তাই লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বার্তা দিচ্ছেন যে, যুদ্ধ এবং শান্তির সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের হাতেই। ইরানে ব্যর্থতা ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়েছে এবং মানুষ আনন্দিত যে ইরান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে কৌশলগত বিজয় অর্জন করেছে। মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করতে এবং এই উদযাপনের আমেজ নষ্ট করতে লেবানন আক্রমণ একটি প্রধান পয়েন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একইভাবে, এই সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন; লেবাননের ওপর হামলা মূলত তেহরানের ‘ইউনিটি অফ ফিল্ডস’ (প্রতিরোধ অক্ষ) ভাঙার একটি ইসরায়েলি কৌশল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করে আসছিল, যা আবারও ভুল প্রমাণিত হয়েছে যখন ইরানি সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট অভিযান শুরু করে।
হিজবুল্লাহ এখনও শক্তিশালী এবং সীমান্তে ইসরায়েলি পরিকল্পনায় বাধা দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আক্রমণ কোনো বীরত্ব নয়, বরং সীমাবদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। সবশেষে, নেতানিয়াহু জানেন যে আলোচনা অনিবার্য। কোনো একদিন বিষয়টি অবশ্যই আলোচনার টেবিলে আসবে। তাই যেকোনো আলোচনার আগে ইসরায়েল মাঠের বাস্তবতা পরিবর্তন করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে।
কৌশলগত ফলাফল
লেবাননে ইসরায়েলি আক্রমণের অনেক পরিণতি হতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার ব্যর্থতা। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে, যার অন্যতম প্রধান দাবি হলো লেবাননসহ ইরানের সমস্ত মিত্রদের ওপর আগ্রাসন বন্ধ করা। যেহেতু দুই পক্ষ ইসলামাবাদে বসছে, আর ইসরায়েল ক্রমাগত লেবাননে বোমা মারছে, এটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে নষ্ট করে দিতে পারে। তেমনটি ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটে পড়বে এবং বিশ্বজুড়ে মন্দা দেখা দেবে। দ্বিতীয়ত, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, যখনই প্রতিরোধ আন্দোলনকে দমন করা হয়, তারা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে। গাজায় হামাস তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
গাজায় বছরের পর বছর সামরিক অভিযান চালানো সত্ত্বেও ইসরায়েল হামাসকে নির্মূল করতে ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী দখলদারিত্ব লেবাননে হিজবুল্লাহর সমালোচকদেরও প্রতিরোধের সাথে যুক্ত হতে বাধ্য করতে পারে। লেবাননে গাজা মডেলের পুনরাবৃত্তি এই অঞ্চলে আরও তীব্র সংঘাতের জন্ম দিতে পারে, যার প্রভাব সিরিয়া এবং ইয়েমেনেও অনুভূত হবে। বর্তমানে ইসরায়েল কেবল হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করছে। কিন্তু হুথিদের কী হবে? ইসরায়েলে আঘাত করার সক্ষমতা ও ইচ্ছা তাদের এখনও আছে। হিজবুল্লাহর ওপর আক্রমণ হুথিদের মনে এই শঙ্কা জাগাতে পারে যে তারাই পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু। তাই ইসরায়েলি আগ্রাসন থামাতে হুথিরা ইরানের পথ অনুসরণ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালী ব্যবহার করতে পারে। তদুপরি, গাজার মতো আরও কোনো অভিযান বিশ্বজুড়ে ইহুদি বিদ্বেষ (Antisemitism) বাড়িয়ে দেবে। [3]
উপসংহার
লেবাননে ইসরায়েলের আক্রমণ অন্য ফ্রন্টগুলোতে তাদের কৌশলগত পরাজয়েরই একটি অংশ। ইরান কেবল ইসরায়েলকে হারায়নি, বরং যুক্তরাষ্ট্রকেও চরমভাবে লজ্জিত করেছে। বর্তমানে দাবার চাল ইরানের হাতে। ইরান যদি লেবাননের ওপর হামলা বন্ধের দাবিতে অনড় থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তা করতে বাধ্য হবে। আর তা না হলে হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ হয়ে যাবে। ইরানের যুদ্ধে অপমান, অভ্যন্তরীণ জনসমর্থন হ্রাস এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক নিন্দা হলো সেই চাপ, যা আসন্ন আলোচনাকে প্রভাবিত করবে। এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি খুবই ভঙ্গুর, দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা কম এবং এই অঞ্চলটি এখন এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানে যুদ্ধ BRICS ঐক্য ও ভারতের “মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট” কৌশলকে পরীক্ষায় ফেলছে

ইসরায়েল-আমেরিকার সমর্থিত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ BRICS জোটের রাজনৈতিক ঐক্যকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে এবং ভারতের “মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট” (বহুমুখী সম্পর্ক) কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।


BRICS ঐক্য ও ভারতের অবস্থান

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ BRICS-এর জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল মুহূর্তগুলোর একটি তৈরি করেছে।
এই জোটটি (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা) মূলত গ্লোবাল সাউথের বিকল্প শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠে।

কিন্তু এখন বড় একটি দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে—

  • ইরান এখন BRICS-এর সদস্য
  • আর ভারত একই সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করছে

ফলে জোটের ভেতরে রাজনৈতিক অসামঞ্জস্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ভারত নিজেকে গ্লোবাল সাউথের নেতা হিসেবে তুলে ধরতে চায়, কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।


ভারতের ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক

ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক নতুন নয়।
১৯৯০-এর দশক থেকে বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে এই সম্পর্ক শক্তিশালী হয়েছে।

ইসরায়েল ভারতের জন্য সরবরাহ করেছে—

  • উন্নত অস্ত্র
  • বিমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি
  • ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা
  • গোয়েন্দা সহযোগিতা

বর্তমানে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে, যেমন:

  • সাইবার সিকিউরিটি
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
  • সামরিক প্রযুক্তি

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত তার বৈদেশিক নীতিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে নিজের ক্ষমতা বাড়াতে চায়—এটাই “মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট”।


ইরান ইস্যুতে ভারতের নীরবতা

সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো—
ভারত ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-আমেরিকার হামলার সরাসরি নিন্দা করেনি।

ভারতের কৌশল হলো “calculated ambiguity” (পরিকল্পিত অস্পষ্টতা)।
অর্থাৎ, সরাসরি কোনো পক্ষ না নিয়ে—

  • শান্তি
  • স্থিতিশীলতা
  • কূটনৈতিক সমাধান
    এই ধরনের সাধারণ কথা বলা।

এর ফলে ভারত একই সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে—

  • ইসরায়েল
  • ইরান
  • উপসাগরীয় দেশগুলো

কিন্তু অন্য BRICS দেশগুলো—
চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা—
ইসরায়েলের সমালোচনা করেছে।

এখানেই BRICS-এর ভেতরে বিভাজন তৈরি হয়েছে।


“মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট”-এর সীমাবদ্ধতা

ভারতের নীতি হলো—
একটি ব্লকের সঙ্গে না থেকে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা।

এতে সুবিধা:

  • বিভিন্ন দিক থেকে লাভ নেওয়া যায়
  • কূটনৈতিক স্বাধীনতা থাকে

কিন্তু সমস্যা হলো—
একই জোটের একটি দেশ আক্রমণের শিকার হলে
আরেকটি দেশ যদি নীরব থাকে, তাহলে উত্তেজনা তৈরি হয়।

প্রশ্ন উঠে—
এই নীতি কি সত্যিকারের নিরপেক্ষতা,
নাকি গোপনে একপক্ষের প্রতি ঝুঁকে পড়া?


জ্বালানি ও কৌশলগত ঝুঁকি

এই পরিস্থিতি ভারতের অর্থনীতি ও কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প:
ইরানের চাবাহার বন্দর
👉 যা ব্যবহার করে ভারত

  • পাকিস্তান এড়িয়ে
  • মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য করে

যদি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়,
তাহলে এই প্রকল্প ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
রাশিয়া-চীন-ইরান একসঙ্গে থাকলে
ভারতের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।


সামনে কঠিন BRICS সম্মেলন

পরবর্তী BRICS সম্মেলন ভারতে হওয়ার কথা।
সেখানে অনেক দেশ চাইবে—

  • ইরানের সমর্থনে যৌথ বিবৃতি
  • ইসরায়েল-আমেরিকার সমালোচনা

এ অবস্থায় ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক চাপ তৈরি হবে।


গ্লোবাল সাউথের জন্য বড় প্রশ্ন

এই পুরো বিষয়টি শুধু ইরানের যুদ্ধ নয়,
বরং বড় প্রশ্ন তুলে:

👉 ভারত কি সত্যিই গ্লোবাল সাউথের নেতা?
👉 নাকি নিজের স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে?

আরও বড় প্রশ্ন:

👉 “মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট” কি বাস্তব কৌশল,
নাকি শুধু কূটনৈতিক ভাষা?

বিশেষজ্ঞ জন মিয়ারশাইমারের মতে,
দেশগুলো শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্বার্থই আগে দেখে।
তাই BRICS-এর মতো জোটেও বিভাজন থাকবেই।


উপসংহার

ইরান যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে—
BRICS এখনো একটি দুর্বল ও বিভক্ত জোট।

ভারতের অবস্থান এই বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করেছে।
এবং ভবিষ্যতে এই জোট কতটা শক্তিশালী থাকবে,
তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


 


কারাকাস অপহরণ: কেন মধ্য ইউরোপকে আমেরিকার হস্তক্ষেপ নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত

এড্রিয়ান করচিনস্কি, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক ও সরিয়ে নেওয়া কেবল লাতিন আমেরিকার একটি সংকট নয়। এটি একটি ভূরাজনৈতিক ভূমিকম্প, যা একটি মৌলিক সত্য উন্মোচন করে: কোনো পরাশক্তির স্বার্থে বাধা সৃষ্টি করলে সার্বভৌমত্ব বাতিলযোগ্য হয়ে যায়।


মাদুরো অপহরণ

বিষয়টি সরাসরি বললে: এটি কোনো বৈধ গ্রেপ্তার ছিল না। এটি ছিল একটি অপহরণ।
গ্রেপ্তারের জন্য আইনি ক্ষমতা ও বিচারিক অধিকার প্রয়োজন। এই অভিযানে কোনোটিই ছিল না—না কোনো আন্তর্জাতিক পরোয়ানা, না কোনো সম্মত প্রত্যর্পণ চুক্তি; ছিল শুধু একটি সার্বভৌম রাজধানীতে সামরিক হামলা চালিয়ে একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে ধরে নিয়ে যাওয়া।

অন্য শক্তিগুলো যখন এ ধরনের কাজ করে, পশ্চিমা বিশ্ব তখন যথার্থভাবেই একে অপহরণ বলে নিন্দা করে। ভাষার যথার্থতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভাষাই নজির তৈরি করে: শক্তি কি আইনের ঊর্ধ্বে উঠে যেতে পারে?

মধ্য ইউরোপের জন্য এই নজিরটি তাৎক্ষণিক ও গুরুতর পরিণতি বহন করে।
যদি একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য কী নিশ্চয়তা অবশিষ্ট থাকে?

এই অভিযান—আকাশ হামলা, মাদুরোকে আটক করা এবং সঙ্গে সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেলের উপর দাবি—ভূরাজনীতির মতোই পুরোনো একটি বার্তা পাঠিয়েছে: শক্তিই শর্ত নির্ধারণ করে।

ইতিহাস, যা এখন কারাকাস দ্বারা আরও স্পষ্ট হয়েছে, দেখায় যে মধ্যম আকারের শক্তিগুলোর জন্য জোট ও নীতিমালা শক্তিশালীদের হাতিয়ার, দুর্বলদের ঢাল নয়।


মধ্য ইউরোপীয় দৃষ্টিভঙ্গি: শর্তাধীন সার্বভৌমত্বের শিক্ষা

মধ্য ইউরোপের দেশগুলোর এই ঘটনাকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখার সব কারণ রয়েছে।
ভেনেজুয়েলা শুধু তেলের সম্পদের বিষয় নয়; এটি সমানভাবে রাশিয়া–চীন অক্ষের দিকে তার কৌশলগত ঝুঁকে পড়ার বিষয়, যা ওয়াশিংটন বজায় রাখতে চাওয়া ভূরাজনৈতিক কাঠামোর জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

যুক্তরাষ্ট্র এই সম্পর্কগুলো ভাঙতেই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সুতরাং ওয়ারশ, বুদাপেস্ট, প্রাগ ও ব্রাতিস্লাভার জন্য জরুরি প্রশ্ন দাঁড়ায়: যদি কোনো মধ্য ইউরোপীয় রাষ্ট্র ওয়াশিংটনের অপছন্দের শক্তিগুলোর সঙ্গে “অতিরিক্ত” গভীর অর্থনৈতিক বা জ্বালানি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে, তাহলে কী হবে?

কারাকাসের অপহরণ দেখিয়ে দেয় যে সার্বভৌমত্ব শর্তসাপেক্ষ—যদি তা কোনো আধিপত্যশীল শক্তির নকশাকে চ্যালেঞ্জ করে, তাহলে বলপ্রয়োগে তা বাতিল করা যায়।
এটি দূরবর্তী কোনো রক্ষকের উপর অন্ধ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একটি সরাসরি সতর্কবার্তা।

পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্র বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে বড় মূল্য দিয়েছে—সামরিক সহায়তা, নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা এবং কূটনৈতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে।
তবু এই আনুগত্য কোনো বীমা দেয় না।

ইতিহাস, যা এখন কারাকাসে আরও জোরালো হয়েছে, দেখায় যে মধ্যম শক্তিগুলোর জন্য জোট ও নিয়ম শক্তিশালীদের হাতিয়ার—দুর্বলদের সুরক্ষা নয়।
অনুগত হওয়া নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নয়।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও হস্তক্ষেপের ধারা

কারাকাসের অপহরণ একটি পরিচিত ধারার সঙ্গে মিলে যায়।
ইরাক থেকে লিবিয়া, সিরিয়া পর্যন্ত—যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন হস্তক্ষেপগুলো দেখিয়েছে যে আন্তর্জাতিক আইন শক্তি ও কৌশলগত প্রয়োজনের সামনে নুয়ে পড়ে।

অজুহাত বদলায়, কিন্তু আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকে।
ইউরোপ প্রায়ই জুনিয়র অংশীদারের ভূমিকা পালন করেছে—সমর্থন দিয়েছে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়েছে।

মধ্য ইউরোপ এই বাস্তবতা ভালোভাবেই জানে।
ইইউ ও NATO-র ম্যান্ডেটগুলো প্রায়ই স্থানীয় বাস্তবতার চেয়ে ওয়াশিংটনের কৌশলকেই বেশি প্রতিফলিত করে।

এর মূল্য—হিমায়িত তহবিল, অসম বোঝা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন—বাস্তব ও স্পষ্ট।
আর ভেনেজুয়েলা প্রমাণ করে, এমনকি বিশ্বস্ত আনুগত্যও কোনো সুরক্ষা দেয় না যখন কোনো পরাশক্তির হিসাব বদলে যায়।


সম্ভাব্য দৃশ্যপট ও স্বায়ত্তশাসনের অপরিহার্যতা

ভেনেজুয়েলা একটি কঠিন প্রশ্ন তোলে:
যে রাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব কোনো প্রভাবশালী মিত্রের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তার পরিণতি কী?

মধ্য ইউরোপ যদি ইউরেশীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করে, তবে কি শুধু চাপের মুখে পড়বে, নাকি মাদুরোর নজির অনুসারে আরও ভয়াবহ কিছুর মুখোমুখি হবে?

পাঠটি স্পষ্ট: সারিবদ্ধতা একটি শর্তাধীন ইজারা, স্থায়ী গ্যারান্টি নয়।

মধ্য ইউরোপকে দ্বিমুখী চিন্তার বাইরে আসতে হবে।
বহুমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলা এখন আর ঐচ্ছিক নয়—এটি টিকে থাকার প্রয়োজন।

এর অর্থ পশ্চিমা সম্পর্ক বজায় রেখে অন্যত্র বাস্তববাদী সম্পৃক্ততা।
কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন মানে সংঘাত নয়; এটি বহুধ্রুবীয় বিশ্বে ঝুঁকি মোকাবিলার যুক্তিসংগত পন্থা।

এই বিকল্পগুলো তৈরি করতে ব্যর্থ হলে অঞ্চলটি চিরস্থায়ী নির্ভরতার দিকে ধাবিত হবে।
ইতিহাস ও ভূরাজনীতি থেকে নেওয়া এই বিমূর্ত সতর্কতা ইউরোপীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়াতেই বাস্তব ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


ইউরোপীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া: সংযম, ভণ্ডামি ও বহুধ্রুবীয়তার শিক্ষা

কারাকাসের অপহরণে ইউরোপের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া কূটনৈতিক ভণ্ডামির এক পাঠ্যবই উদাহরণ।
এটি একটি মৌলিক সত্য উন্মোচন করে: ব্রাসেলস ও অধিকাংশ পশ্চিমা রাজধানীর কাছে আন্তর্জাতিক আইনের পবিত্রতা কোনো নীতি নয়, বরং পরিচয়ের উপর নির্ভরশীল একটি পরিবর্তনশীল বিষয়।

২৬টি সদস্য রাষ্ট্র সমর্থিত ইইউ বিবৃতি—যেখানে কেবল হাঙ্গেরি স্বাক্ষর দেয়নি—এই হিসেবি দ্ব্যর্থতার সুর নির্ধারণ করে।
আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার আনুষ্ঠানিক আহ্বানটি কৌশলে আড়াল করা হয়।

বিবৃতির প্রকৃত অগ্রাধিকার প্রকাশ পায় প্রথম বাক্যেই: অপহরণের নিন্দা নয়, বরং মাদুরো “বৈধতা হারিয়েছেন” এই পুনরুক্তি।
এতে মূল অজুহাত প্রতিষ্ঠিত হয়—ভুক্তভোগীকে প্রথমে অবৈধ ঘোষণা করলে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন একটি গৌণ, প্রায় প্রযুক্তিগত বিষয়ে পরিণত হয়।

এরপর “সব পক্ষের সংযম” আহ্বান এই নাটক সম্পূর্ণ করে—একটি নিরপেক্ষ শব্দবন্ধ যা দোষকে ঝাপসা করে এবং আক্রমণকারীকে চিহ্নিত করা এড়িয়ে যায়।

জাতীয় নেতাদের দ্বিধাগ্রস্ত বক্তব্যেও এই সতর্কতা প্রতিফলিত হয়।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এটিকে “খুব তাড়াতাড়ি” বলা ও “জটিল” আখ্যা দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
তিনি অভিযানের অবৈধতার চেয়ে মাদুরোর ব্যর্থতা নিয়েই বেশি কথা বলেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে “সহজ নয়” বলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দায় ঠেলে দেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রথমে প্রায় উদযাপনমূলক মন্তব্য করে পরে কৌশলগতভাবে পিছু হটেন।

এই ধূসর দ্বিধার বিপরীতে দুটি প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট ছিল।
স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিৎসো ঘটনাটিকে সরাসরি “অপহরণ” ও “সর্বশেষ আমেরিকান তেল অভিযান” বলে আখ্যা দেন।

অন্যদিকে, হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবান কোনো নৈতিক বিতর্কে যাননি।
তিনি কেবল অর্থনৈতিক ফলাফলের দিকে তাকান—যৌথ তেল নিয়ন্ত্রণ জ্বালানি বাজারের জন্য ভালো।

ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়ার সামগ্রিকতা মধ্য ইউরোপের জন্য স্পষ্ট শিক্ষা দেয়:
সার্বভৌমত্বের নীতিগুলো বেছে বেছে প্রয়োগ করা হয়।
সংযুক্তি কোনো ঢাল নয়।
একমাত্র টেকসই পথ হলো প্রকৃত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন।


উপসংহার: বাস্তব রাজনীতির শিক্ষা

কারাকাস থেকে নেওয়া শিক্ষাটি নৈতিক নয়, ব্যবহারিক।
ভূরাজনীতিতে শক্তি ও নজিরই আসল মুদ্রা।

মধ্য ইউরোপ কাগুজে জোটের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে না।
একমাত্র নির্ভরযোগ্য সুরক্ষা হলো বাস্তব পদক্ষেপ: অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্য করা, নির্ভরতা কমানো এবং কার্যকরভাবে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

ভেনেজুয়েলা দূরে হলেও, সেখানকার নজির ইউরোপের দোরগোড়ায় এসে পড়েছে।
মধ্য ইউরোপের সামনে দুটি পথ:
অন্যদের তৈরি ঝুঁকি বহন করে নির্ভরশীল থাকা, অথবা উদ্যোগ নিয়ে নিজের স্বার্থ রক্ষা করা।

নিকোলাস মাদুরোর অপহরণ ইউরোপের নিজের দুর্বলতার আয়না।
কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখনই।




ভেনেজুয়েলার সংঘাত উত্তর কোরিয়ার বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিকোণ থেকে


কোন্সট্যান্টিন আসমোলভ, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬


৩ জানুয়ারি, ২০২৬ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় একটি সামরিক অভিযান চালায়। তারা রাজধানী কারাকাস এবং অন্যান্য এলাকায় কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। মার্কিন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।



---


মাদুরো - ট্রাম্প - কিম জং-উন


ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, মাদুরোকে “নাশক-সন্ত্রাসবাদ”ের অভিযোগে বিচার করা হবে এবং ওয়াশিংটন দেশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে।


এ সময় (এই নিবন্ধটি লেখা হয়েছে ৪ জানুয়ারি, ২০২৫-এ), যুদ্ধের ধোঁয়া পুরোপুরি সরেনি। লেখক ল্যাটিন আমেরিকার বিশেষজ্ঞ নয়, তাই আঞ্চলিক বিশদ আলোচনা করছেন না। তবে কারাকাস এবং পিয়ংইয়ংয়ের তুলনা খুবই প্রমাণিত, এবং আমরা তা আলোচনা করব, কারণ দুই দেশের রাজনৈতিক পথনির্দেশক অনেক তুলনামূলক শিক্ষা প্রদান করে।



---


পাঠ এক: প্রাথমিক অবস্থান এবং দেশের শক্তিশালী করার পদক্ষেপ


উভয় দেশের জনসংখ্যা প্রায় সমান: ২৫-২৮ মিলিয়ন, কিন্তু উত্তর কোরিয়ার ৮৭% ভূখণ্ড পাহাড়ী, যা কৃষির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আরও, উত্তর কোরিয়ার কাছে এমন খনিজ সম্পদ নেই যা সহজে রফতানি করা যায়। ১৯৯০-এর দশক থেকে দেশটি শক্তিশালী শক্তি সংকটে উন্নয়ন করছে। ভেনেজুয়েলায় এমন সমস্যা নেই এবং, উত্তর কোরিয়ার তুলনায়, প্রচুর শক্তি সংরক্ষণ রয়েছে—বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলসংরক্ষণের দাবি করা হয়।


যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেবল ভেনেজুয়েলার তেলের জন্য আগ্রহী হত, আক্রমণ অনেক আগে শুরু হত। উভয় দেশই নিষেধাজ্ঞার আওতায়, তবে ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞার মাত্রা মোট ভেতরের বন্ধনের কাছাকাছি ছিল না। ২১শ শতকে, বিশেষ করে ২০২০-এর দশকের শুরুতে, দেশটি কখনো এমন কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়নি যেমন তিন বছরের স্বেচ্ছা বিচ্ছিন্নতা।


নিকোলাস মাদুরো ২০১৩ থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন, যা কিম জং-উনের টার্মের সমতুল্য। তবে উত্তর কোরিয়ার যুবক নেতা কিম জং-উন তার ১০ বছরে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি করেছেন, বিশেষত সামরিক ক্ষেত্রে। তিনি দেশকে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে গড়েছেন, আন্তর্জাতিক একাকীত্বের প্রাচীর ভেঙেছেন এবং মানুষের জীবনমান তুলনামূলকভাবে উন্নত করেছেন।


ভেনেজুয়েলায় আমরা গুরুতর উদ্ভাবনী প্রকল্প দেখি না। জীবনমান মূলত সামাজিক সহায়তা প্যাকেজের মাধ্যমে উন্নত হয়েছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নত হয়নি। বিদেশি ঋণ বা আমেরিকান পেট্রোডলার তেল-শোধনাগার বা সামরিক শিল্পে খরচ হয়নি, বরং নাগরিকদের উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় অবকাঠামো প্রকল্প চালু হয়েছিল মাদুরোর পূর্বসূরি হুগো চাভেজের সময়ে, কিন্তু উচ্চ তেলের যুগের সমাপ্তির সঙ্গে শেষ হয়েছে এবং endemic (প্রচলিত) স্থানীয় দুর্নীতিতে ডুবে গেছে, যা উচ্চ অপরাধের হার সহ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ধীরগতি প্রদর্শন করেছিল।


ফলে, প্রাথমিকভাবে অনেক বিকল্প থাকা সত্ত্বেও, ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কারণে মার্কিন আক্রমণের জন্য প্রস্তুত ছিল না। এটি স্পষ্টভাবে দেখায় কিভাবে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা এবং সামাজিকবাদী বাক্যবিন্যাসে জনপদিকরণ (populism) আলাদা।


ব্যাখ্যা:

উভয় দেশের প্রাথমিক অবস্থা, সম্পদ, এবং সরকারের নীতি তুলনা করে দেখা যায় যে, কৌশলগত প্রস্তুতি, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্ব কতটা। মাদুরোর উদাহরণ দেখায় যে, শুধু সামাজিক সহায়তা বা তেল-সম্পদের উপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়।



---


পাঠ দুই: হুমকি বোঝার এবং প্রতিক্রিয়া প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্বের অভাব


সেই সময়, কিম ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এবং নিউক্লিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ঢাল তৈরিতে মনোযোগ দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ছিল, এবং সংঘাতের সম্ভাবনা ৫০% ছাড়িয়ে যায়। কিম ভঙ্গুরতার জানালা “পেরিয়ে” যথেষ্ট নিউক্লিয়ার প্রতিরক্ষা অর্জন করেন, যার পরে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ঝুঁকি নেয়নি। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে তিনবার “রোগী রাষ্ট্রের” নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।


যখন ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি বিকশিত হবে, তার স্থায়িত্বের সম্ভাবনা প্রকাশ পাবে, কিন্তু আক্রমণের সত্যই বোঝায় যে, যুক্তরাষ্ট্র আত্মবিশ্বাসী এবং ভেনেজুয়েলা কঠোর প্রতিরোধ দেখায়নি।


মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে পররাষ্ট্র সচিব, সরাসরি ভেনেজুয়েলার বিরোধিতা করেছিলেন। দেশটি তাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ। এমন একজন ব্যক্তি পররাষ্ট্র বিভাগের শীর্ষে থাকাটা সতর্কবার্তা। নতুন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল, যা পশ্চিম গোলার্ধকে অগ্রাধিকার এলাকা ঘোষণা করে, কারাকাসকে সতর্ক করা উচিত ছিল।


তবে, বাস্তব যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়ানোর জন্য প্রায় কিছুই করা হয়নি। লেখক প্রাথমিক মন্তব্য স্মরণ করিয়ে দেন: “যদি যুক্তরাষ্ট্র আপনাকে ধ্বংসকারী অস্ত্র বানাচ্ছে বলে অভিযোগ করে, তবে তা অবিলম্বে তৈরি করা শুরু করুন,” শত্রুকে “দৃঢ়তার মিছিল” দিয়ে ভয় দেখানোর পরিবর্তে।


ভেনেজুয়েলা শক্তিশালী জাতি হিসেবে মনে করানোর অভিনয়মূলক অনুষ্ঠানের সময়, প্রকৃত যুদ্ধ প্রস্তুতি অবহেলিত ছিল। মাদুরো নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে সমর্থকদের মিছিল আয়োজন করেছিলেন এবং বলেছেন: “এসো এবং ধরার চেষ্টা কর; আমি তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছি।”


চূড়ান্তভাবে, আমেরিকানরা আসলেই ৩০ মিনিটের অপারেশন সম্পন্ন করেছিল, প্রায় কোনো ক্ষতি ছাড়া।


কিছু মানুষ বলে, “সবাইকে কিনে নেওয়া হয়েছে,” কিন্তু এটি সঠিক নয়। কিম জং-উন এবং ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী তুলনা করলে বোঝা যায়, কেন ভেনেজুয়েলার সামরিক দক্ষতা কম ছিল।


ব্যাখ্যা:

এটি দেখায় যে কৌশলগত প্রস্তুতি, সেনাবাহিনীর দক্ষতা এবং সতর্ক নেতৃত্বের অভাব দেশের জন্য বিপদ তৈরি করতে পারে।



---


পাঠ তিন: বৈশ্বিক অস্থিরতার যুগে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আবেদন এবং পেছনের দর কষাকষি কার্যকর নয়


মাদুরো তার নিজ সেনাবাহিনীর চেয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ার ওপর বেশি নির্ভর করেছিলেন। আক্রমণ নিন্দা করা হলেও, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তরিত হয়নি। জাতিসংঘে বিরোধী-আমেরিকান প্রস্তাব পাসের চেষ্টা করলে, আমেরিকান ভেটো বাধা দেবে।


কিছু সূত্রে বলা যায়, মাদুরো পেছনের দর কষাকষিতে নির্ভর করেছিলেন এবং মূল বিষয়ে পুরোপুরি সমাধান দিতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র পেরিয়ার দেশ হিসেবে ঘোষণা করলে দর কষাকষি আর প্রতারণা নয়, বরং বৈধ সামরিক কৌশল।


ব্যাখ্যা:

আন্তর্জাতিক সমর্থনের ওপর নির্ভর করে দেশকে রক্ষা করা যায় না। প্রয়োজন বাস্তব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কৌশল।



---


পাঠ চার: যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে হুমকির প্রতিক্রিয়া দেখায়


যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেবল তেলের জন্য আগ্রহী হত, আক্রমণ অনেক আগে শুরু হত। ভেনেজুয়েলার তেল বিশেষায়িত, প্রধানত বিটুমিনের মতো, যা রসায়ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। চীন ৮০% কিনছে।


বিশ্বব্যাপী দক্ষতার সংকটের কারণে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব যা বলছে তা বিশ্বাস করছে। ইরাকেও একই ঘটনা ঘটেছিল।


ব্যাখ্যা:

যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত সীমান্ত বা জাতীয় স্বার্থের হুমকিতে দ্রুত এবং কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখায়।



---


পাঠ পাঁচ: বৈশ্বিক অস্থিরতার যুগে সংঘাতের ভূমিকা


ভেনেজুয়েলার আক্রমণের উদ্দেশ্য:

১. ভেনেজুয়েলা চীনের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, তাই আক্রমণ চীনের অর্থনৈতিক শক্তি দুর্বল করবে।

২. ট্রাম্প পশ্চিম গোলার্ধে নিয়ন্ত্রণ পুনঃস্থাপন করছেন, আমেরিকান সেনা অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।

৩. অন্যান্য দেশও একইভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ অনুসরণ করে।


ব্যাখ্যা:

শক্তিশালী দেশরা নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করে, যা আন্তর্জাতিক নীতি ও আইনের সীমা চ্যালেঞ্জ করে।



সারসংক্ষেপ

কিম জং-উনের নীতি কতটা কার্যকর তা প্রমাণিত হয়েছে। দর্শকদের উচিত সংঘাতের বিকাশ মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করা। মাদুরোর পপুলিজম এবং সমাজতান্ত্রিক বক্তব্য কতটা স্থায়িত্ব এবং প্রতিরোধ নিশ্চিত করে তা দেখা গুরুত্বপূর্ণ।


কোন্সট্যান্টিন আসমোলভ, ইতিহাসে পিএইচডি, চীন ও আধুনিক এশিয়া ইনস্টিটিউট, রাশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেসের কোরিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের প্রধান গবেষক


০৭ জানুয়ারি, ২০২৬



২️⃣ আলজেরিয়ার গুরুত্ব


ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ আলজেরিয়া গ্লোবাল সাউথের অন্যান্য দেশগুলোর জন্য অনুসরণযোগ্য উদাহরণ স্থাপন করেছে; এটি ভারতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাখ্যা: আলজেরিয়া দেখিয়েছে কিভাবে সাবেক উপনিবেশিক শক্তির অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়া যায়। ভারতও এই উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিতে পারে।



---


৩️⃣ ভারতের ব্রিটিশ শাসন


ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপন।

ব্যাখ্যা: ভারত ও ব্রিটিশদের ইতিহাসে এটি প্রেক্ষাপট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।



---


৪️⃣ আবিষ্কারের যুগ


পঞ্চদশ শতকে শুরু হওয়া আবিষ্কারের যুগকে ইউরোপকেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবীরা মানব রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুগ মনে করেন।

ব্যাখ্যা: ইউরোপীয়রা নতুন দেশ আবিষ্কারকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করে।



---


৫️⃣ নতুন রাজনৈতিক ভিত্তি


এটি শুধু নতুন বিশ্ব আবিষ্কারে সহায়তা করেনি, বরং নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি গড়েছে।

ব্যাখ্যা: নতুন অঞ্চলের আবিষ্কার নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেছে।



---


৬️⃣ জনস্মৃতির প্রকৃতি


দুর্ভাগ্যবশত, মানুষের স্মৃতি প্রেক্ষাপটভিত্তিক এবং অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমাহীন।

ব্যাখ্যা: মানুষ অতীতের অন্যায় সহজে ভুলতে পারে না, বিশেষ করে শোষণ ও অন্যায়।



---


৭️⃣ উপনিবেশবাদের স্মৃতি


এমন একটি স্মৃতি হলো উপনিবেশবাদ—যা আবিষ্কারের যুগের সরাসরি ফলাফল।

ব্যাখ্যা: নতুন দেশ আবিষ্কারের পর ইউরোপীয়রা সেই অঞ্চল দখল করে শাসন শুরু করেছিল।



---


৮️⃣ ইউরোপীয় দখল


পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিশাল অংশ দখল করে উপনিবেশ বানিয়েছিল, ফলে পাঁচ শতকেরও বেশি সময় মানুষের স্বাধীনতা নষ্ট হয়।

ব্যাখ্যা: দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় জনগণের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা কেটে নেওয়া হয়েছিল।



---


৯️⃣ আলজেরিয়ার আইন প্রভাব


তাই স্পষ্ট যে আলজেরিয়ার এই আইন গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে শক্তি দেবে—যাতে তারা সাবেক উপনিবেশিক শক্তির কাছে অতীতের অন্যায়ের প্রতিকার দাবি করতে পারে।

ব্যাখ্যা: আলজেরিয়ার উদাহরণ অন্য দেশগুলোর জন্য সাহস জোগাচ্ছে।



---


১০️⃣ স্বাধীনতা আন্দোলন


নিজেদের মর্যাদা ফিরে পেতে, গ্লোবাল সাউথের সব প্রান্তে উপনিবেশবিরোধী মুক্তি আন্দোলন চালানো হয়েছিল, যার ফলে সাবেক উপনিবেশিক দেশগুলো স্বাধীন হয়েছে।

ব্যাখ্যা: মুক্তি আন্দোলন দ্বারা দেশগুলো তাদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেছে।



---


১১️⃣ স্বাধীনতার পরও প্রভাব


কিন্তু স্বাধীনতা পাওয়ার পরও ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের অবশিষ্ট প্রভাব বিভিন্ন রূপে রয়ে গেছে।

ব্যাখ্যা: প্রশাসন, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোতে প্রভাব এখনও আছে।



---


১২️⃣ আলজেরিয়ার উদাহরণ


উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া—যা ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ—সম্প্রতি দেখিয়েছে কীভাবে উপনিবেশবাদের অবশিষ্ট চিহ্নগুলো মুছে ফেলা যায়।

ব্যাখ্যা: এটি গ্লোবাল সাউথের অন্যান্য দেশকে পথ দেখাচ্ছে।



---


১৩️⃣ আইন পাস


আলজেরিয়ার আইনপ্রণেতারা একটি আইন পাস করেছেন, যেখানে ফ্রান্সের ১৩০ বছরের শাসনকে “অপরাধ” হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা: ফ্রান্সের শাসনকে আইনি দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।



---


১৪️⃣ সম্পদ ফেরত


এই আইন ফ্রান্সের দীর্ঘ শাসনকালে যে সমস্ত সম্পদ নেওয়া হয়েছে তা ফেরত দিতে নির্দেশ দেয়।

ব্যাখ্যা: লুট করা সম্পদ ফেরত দেওয়া হবে।



---


১৫️⃣ পুরো শাসনকাল অন্তর্ভুক্ত


এই আইন ফরাসি শাসনের পুরো সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করে—১৮৩০ সালে কিং চার্লস এক্সের সেনাবাহিনী সিদি ফেরুচ সৈকতে অবতরণ থেকে ৫ জুলাই ১৯৬২ পর্যন্ত, যখন আলজেরিয়া স্বাধীন হয়।

ব্যাখ্যা: শাসনের শুরু থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পুরো সময়কাল বিচারাধীন।



---


১৬️⃣ প্রতিরোধকারীদের ফেরত


আইনে আলজেরিয়ার কিছু প্রতিরোধকারী যাদের জোরপূর্বক ফ্রান্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের ফেরত আনারও নির্দেশ রয়েছে।

ব্যাখ্যা: যারা যুদ্ধ বা প্রতিরোধে অংশ নিয়েছিল তাদের ফেরত পাঠানোর দাবি রয়েছে।



---


১৭️⃣ পারমাণবিক মানচিত্র


আইনে ফ্রান্সের পারমাণবিক পরীক্ষা (১৯৬০-১৯৬৬) সম্পর্কিত বিস্তারিত মানচিত্রও সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা: পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পর্কিত তথ্য স্বচ্ছ করতে চাওয়া হয়েছে।



---


১৮️⃣ ‘ফ্রেঞ্চ কলোনিয়ালিজম’ উদযাপন অপরাধ


আইন আলজেরিয়ানদের যে কোনওভাবে “ফ্রেঞ্চ কলোনিয়ালিজম” উদযাপন করার প্রচেষ্টাকেও অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা আলজেরিয়ার প্রতিরোধ চিহ্ন ও “উপনিবেশবাদের অর্থবহ মন্তব্য”কে ক্ষুণ্ণ করে।

ব্যাখ্যা: ইতিহাসের অন্যায় উদযাপন রোধ করা হচ্ছে।



---


১৯️⃣ ফ্রান্সের প্রতিক্রিয়া


প্রত্যাশিত মতো, ফ্রান্স আইনটি কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে এবং এটিকে অন্যায় বলেছে।

ব্যাখ্যা: সাবেক উপনিবেশিক শক্তি সাধারণত প্রতিকার দাবি করলে বিরক্ত হয়।



---


২০️⃣ ফ্রান্স-আলজেরিয়া সম্পর্ক


ফ্রান্সের দাবি, আইনটি ফ্রান্স-আলজেরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি করবে।

ব্যাখ্যা: অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রভাবিত হতে পারে।



---


২১️⃣ নিকট সম্পর্কের সঙ্গে উত্তেজনা


আলজেরিয়া ও ফ্রান্সের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকলেও কূটনৈতিক সম্পর্ক সবসময় উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।

ব্যাখ্যা: অতীতের অপরাধ স্বীকার করতে ফ্রান্স অনিচ্ছুক।



---


২২️⃣ ফ্রান্স কখনও ক্ষমাপ্রার্থী হয়নি


রাজনৈতিক ইতিহাসে ফ্রান্স কখনও আলজেরিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইেনি, যদিও তাদের শাসনকে “অন্ধকার সময়” বলা হয়েছে।

ব্যাখ্যা: সাবেক উপনিবেশিক শক্তির অহংকার ও দায়িত্ব এড়ানোর মনোভাব।



---


২৩️⃣ প্রাক্তন উপনিবেশিক অহংকার


এটি সাবেক উপনিবেশিক শক্তির অহংকার প্রকাশ করে, বিশেষ করে তারা অতীতের অপরাধের জন্য প্রতিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে।

ব্যাখ্যা: অতীতে দখল করা অপরাধের জন্য স্বীকারোক্তি বা প্রতিকার দিতে তারা আগ্রহী নয়।



---


২৪️⃣ ভারতের জন্য গুরুত্ব


আলজেরিয়ার পদক্ষেপ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাখ্যা: ভারতও সাবেক উপনিবেশিক অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।



---


২৫️⃣ ভারতের অর্থনৈতিক ক্ষতি


২০২৫ সালের অক্সফাম রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৭৬৫ থেকে ১৯০০ সালের মধ্যে ব্রিটেন ভারত থেকে ৬৪.৮২ ট্রিলিয়ন ডলার লুটেছে।

ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ শাসনের সময় ভারতের সম্পদ অত্যন্ত বেশি পরিমাণে বিদেশে স্থানান্তরিত হয়েছিল।



---


২৬️⃣ শিল্প উৎপাদনে প্রভাব


এই অর্থনৈতিক লুট ভারতের শিল্প উৎপাদনকে ধ্বংসের দারুণ প্রভাব ফেলেছে, যা ১৭৬৫ সালে ২৫% থেকে ১৯০০ সালে ২% এর নিচে নেমে গেছে।

ব্যাখ্যা: ভারতের শিল্প ক্ষেত্র প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।



---


২৭️⃣ ব্রিটিশ অতি ধনী লাভবান


এর উপরে, প্রায় অর্ধেক অর্থ ব্রিটেনের শীর্ষ ১০% অতিধনী ব্যক্তির কাছে গিয়েছে।

ব্যাখ্যা: লুট করা অর্থ খুবই অসমভাবে বিতরণ হয়েছে।



---


২৮️⃣ ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং ব্রিটিশ ক্রাউন


ভারতের সম্পদ প্রথমে ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং পরে ব্রিটিশ ক্রাউন দ্বারা লুট করা হয়েছিল।

ব্যাখ্যা: শোষণের ধারাবাহিকতা এবং পদ্ধতি বোঝাচ্ছে।



---


২৯️⃣ ভারতীয় জাতীয়তাবাদী ব্যাখ্যা


প্রাথমিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদীরা যেমন দাদাভাই নাওরোজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এই “ধন লুট” তত্ত্ব বিশ্লেষণ করেছেন।

ব্যাখ্যা: ভারতীয় নেতা ও চিন্তাবিদরা ব্রিটিশ লুটপাটের পরিস্কার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।



---


৩০️⃣ আধুনিক ব্যাখ্যা


আধুনিক সময়ে শশী থারুর তার বই “An Era of Darkness” এ ব্রিটিশ শাসনের বিশদ বিবরণ দিয়েছেন।

ব্যাখ্যা: ইতিহাসবিদ ও রাজনীতিবিদ আধুনিকভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।



---


৩১️⃣ ভারতের দাবি


এখন ভারতের সময় এসেছে ব্রিটেনের কাছে উপনিবেশকালীন অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়ার।

ব্যাখ্যা: অতীতের ক্ষতিপূরণ এবং ক্ষমা চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।



---


৩২️⃣ চুরির মালামাল ফেরত


প্রথম পদক্ষেপ হবে, ব্রিটেনের মিউজিয়ামগুলো সমস্ত চুরিকৃত ভারতীয় শিল্পকর্ম ও ঐতিহাসিক সামগ্রী ফেরত দেবে।

ব্যাখ্যা: লুট করা সম্পদ ফেরত পাওয়াই প্রাথমিক ন্যায়বিচার।



---


৩৩️⃣ আনুষ্ঠানিক ক্ষমা


তারপর প্রধানমন্ত্রী এবং ইংরেজি রাজতন্ত্রের প্রধানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া হবে।

ব্যাখ্যা: প্রায় ২০০ বছরের শাসনের ভুলের জন্য ক্ষমা জরুরি।



---


৩৪️⃣ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উত্তরসূরী


ভারত জুড়ে যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ হারিয়েছে তাদের উত্তরসূরীদের চাহিদা পূরণ করা হবে।

ব্যাখ্যা: ইতিহাসের ক্ষতিপূরণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।



---


৩৫️⃣ লুট করা সম্পদের ক্ষতিপূরণ


সর্বশেষ, ভারতের থেকে লুট করা সম্পদের কিছু ক্ষতিপূরণ করা হবে।

ব্যাখ্যা: প্রাক্তন উপনিবেশিক শক্তি তার লজ্জাজনক ইতিহাসের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে।



---


৩৬️⃣ আলজেরিয়ার আইন প্রভাব পুনরায়


ফলে, আলজেরিয়ার আইন গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে সাবেক উপনিবেশিক শক্তির কাছে অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়ার ক্ষমতা দেবে।

ব্যাখ্যা: এই আইন অন্য দেশগুলোকে ন্যায় চাওয়ার জন্য শক্তি জোগাচ্ছে।



---


৩৭️⃣ লেখক পরিচিতি


প্রণয় কুমার শোম, গবেষণা বিশ্লেষক এবং বিহারের মহাত্মা গান্ধী সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পিএইচডি প্রার্থী।



Powered by Blogger.